ঢাকা , সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইবিতে স'হিংসতা ও অ'স্ত্রের মহড়ায় হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস সোসাইটির উ'দ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৯-০৭ ১১:৪১:৩৯
ইবিতে স'হিংসতা ও অ'স্ত্রের মহড়ায় হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস সোসাইটির উ'দ্বেগ ইবিতে স'হিংসতা ও অ'স্ত্রের মহড়ায় হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস সোসাইটির উ'দ্বেগ
ইবি প্রতিনিধি


ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) এক জুনিয়র শিক্ষার্থী কর্তৃক সিনিয়র শিক্ষার্থীকে থাপ্পড় দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্রসংগঠনের মধ্যে উত্তেজনা ও ক্যাম্পাসে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্য মহড়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস সোসাইটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটির সভাপতি আলী আহসান মুহাম্মদ জুবাইর ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ খাদেমুল ইসলাম যৌথ বিবৃতিতে এ উদ্বেগ জানান।

বিবৃতিতে মানবাধিকারকর্মীদ্বয় বলেন, শিক্ষাঙ্গন হবে জ্ঞানচর্চা, মতপ্রকাশ, যুক্তি, সহাবস্থান ও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিক্ষাজীবনের জায়গা। সেখানে অস্ত্রের মহড়া, সংঘবদ্ধ উত্তেজনা কিংবা যেকোনো ধরনের পেশিশক্তির প্রদর্শন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে সরাসরি প্রশ্নের মুখে ফেলে এবং সুস্থ শিক্ষার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তারা বলেন, গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলে ছাত্রশিবির নেতাকে ছাত্রদল কর্মীর থাপ্পড় দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষ সমাধানের উদ্দেশ্যে প্রভোস্ট কক্ষে বসলেও হলের বাইরে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের ধস্তাধস্তিতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযুক্তকে হল থেকে উদ্ধার করে প্রক্টর অফিসে নেওয়া হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ওই ঘটনার পর বিকেলে শাখা ছাত্রদল ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে। অন্যদিকে জিয়া মোড়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নেয় ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা।


পরে কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেয় ছাত্রদল ও বহিরাগত বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় অনেকের হাতে রামদা, ছুরি ও হাতুড়িসহ দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। পরে সেখানে স্থানীয় জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশকে সংঘাত, ভয় ও আতঙ্কের দিকে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে বহিরাগতদের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে। সংগঠনটি আরও জানায়, মতপার্থক্য, সাংগঠনিক বিরোধ কিংবা কোনো ব্যক্তিগত ঘটনার সমাধান আলোচনার মাধ্যমে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করেই হওয়া উচিত। কোনো ছাত্রসংগঠনই ক্যাম্পাসে ভয় সৃষ্টি, অস্ত্র প্রদর্শন বা সহিংসতার মাধ্যমে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। একইভাবে শিক্ষাঙ্গনে

বহিরাগতদের প্রবেশ করে শক্তি প্রদর্শনের ঘটনাও গ্রহণযোগ্য নয়। বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ বন্ধ, দেশীয় অস্ত্রসহ যেকোনো ধরনের অস্ত্র বহন ও প্রদর্শনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ও উত্তেজনার সঙ্গে জড়িতদের দলীয় পরিচয় বা প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সর্বোপরি, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের প্রতি শান্তিপূর্ণ ও শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। প্রসঙ্গত, গত ৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলে ছাত্রদল নেতা আলিনূর রহমান বাঁধন কর্তৃক ছাত্রশিবির নেতা কাজী জুহায়েরকে থাপ্পড় দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে হলের বাইরে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। বিকেলে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা পৃথকভাবে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়। এ সময় উভয় পক্ষের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা যায়। এছাড়া ছাত্রদলের মিছিলে আসা বহিরাগতদের

কয়েকজনের হাতে রামদা, ছুরি ও হাতুড়িসহ দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। পরে স্থানীয় জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন এবং ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাসহ নিরাপত্তা জোরদারের পদক্ষেপ নেয়।


নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ